অবশেষে ইরান যুদ্ধের অবসান হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ বলা হলেও এটা কার্যত ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলী আগ্রাসন। এ চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের কারণে শুধু ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমন নয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমগ্র বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থা। জ¦ালানি মূল্য বৃদ্ধির ফলে খাদ্যসহ বিভিন্ন জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে সংকটে ফেলেছে কোটি কোটি মানুষকে। আজ শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অবসান হবে বলে জানা যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা একেবারে সন্দেহমুক্ত হতে পারছেন না। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন। তার মিত্র ইসরাইলও অবিশ্বস্ত একটি অপশক্তি।

যা’হোক, দীর্ঘ ১০৬ দিনের রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী সঙ্ঘাতের পর যুদ্ধাবসানের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আলজাজিরা জানিয়েছে, দু’দেশই একটি সমঝোতা স্মারক বা ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ চূড়ান্ত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধাবসানের একটি চুক্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এ সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন আশার আলো দেখালেও এর স্থায়িত্ব ও কৌশলগত শর্তাবলি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, যে কথা আগেই বলেছি।

যুদ্ধে মার্কিন পক্ষের ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। তারা কয়েক ডজন বিমান হারিয়েছে, লজিস্টিক আরো ক্ষতি হয়েছে এবং ট্রাম্পের দলের ভেতর থেকেই যুদ্ধ বন্ধের চাপ রয়েছে। মার্কিন হামলায় ইরানী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনীসহ বহু সামরিক প্রধান ও নেতা নিহত হওয়ায় আমেরিকা এক রকম ‘ফেস্টিভ’ মুডে আছে। এটাও যুদ্ধ বন্ধের একটা কারণ তাদের দিক থেকে এমনটা মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধে নিহত অন্তত ৭ হাজার। লেবাননে নিহত অন্তত ৩ হাজার ৫৯৭ জন আর ইরানে নিহত ৩ হাজার ৪৬৮। উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিহত ২৯ জন। ইরানি হামলায় ২৬ ইসরাইলি নাগরিক ও ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ইরানে ৩০ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধে লেবাননে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে এ চুক্তিকে নিজেদের জন্য ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছে ইসরাইল। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও এই চুক্তির বিরোধিতা করে সামরিক অভিযান ‘সৃজনশীল উপায়ে’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা এই শংকাই করে আসছিলেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আজ এ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। লুসার্নের নিকটবর্তী বার্গেনস্টক রিসোর্টে এটি স্বাক্ষরিত হবে। ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবফ ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ভ্যান্স মূল দলিলে স্বাক্ষর করবেন, গালিবফ ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন। কোনো পক্ষই এর আনুষ্ঠানিক টেক্সট প্রকাশ করেনি, তবে মার্কিন ও সৌদি গণমাধ্যমগুলো বলছে এটি একটি ১৪-দফা স্মারকলিপি, যেখানে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করে, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করে, তবে ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তির অধীনে তারা “প্রকৃত সুবিধা” পেতে পারে।

প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক বৈরিতার অবসান ঘটবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পথ সুগম হবে। তবে চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন। ইরান চুক্তিকে নিজেদের একটি বড় বিজয় হিসেবে প্রচার করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এই সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তেহরানের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ এবং ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়ের দাবিও এই চুক্তির অংশ। তবে মি. ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন ইরানকে কোনো নগদ অর্থ দেয়া হচ্ছে না। এ পরস্পরবিরোধী বয়ানের কারণে চুক্তির ভেতরের সুনির্দিষ্ট মেকানিজম বা পদ্ধতিগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরপরই চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হবে এবং তা ৬০ দিন ধরে চলবে বলে খবর। এ সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

হরমুজ প্রণালী : শুল্ক প্রসঙ্গ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি : এ যুদ্ধের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা ছিল হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের জন্য অন্যতম লাইফলাইন এই প্রণালী। চালুর পর হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের শর্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ইরান ও ওমান ঘোষণা করেছে এ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘পরিষেবা শুল্ক’ নেয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী এ জলপথের পরিবেশ ও সার্বিক সুরক্ষায় ইরান-ওমান যে বিপুল অর্থ ব্যয় করবে, তার জন্য এই ফি যৌক্তিক মনে করে ইরান। মি. ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা এ প্রণালী দীর্ঘমেয়াদে ‘টোল-মুক্ত’ থাকবে। তবে এ-সংক্রান্ত টেকনিক্যাল আলোচনা এখনো বাকি রয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি বড় সঙ্কট হলো নৌ মাইন। যুদ্ধকালীন সময়ে পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করতে ৪০ থেকে ৫০ দিন সময় লাগবে।

নতুন হামলায় সংকট বাড়বে? : ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সঙ্ঘাত অবসান হবে এমন আশাবাদে ভাটা পড়েছে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলার ঘটনায়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, গত বুধবার দক্ষিণ লেবাননের মাইফাদুন ও শোকিন এলাকায় তিনটি যানবাহনে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ জেলার কাফার তেবনিতের উপকণ্ঠে বিমান হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারাও ইসরাইলি বাহিনীর দিকে অন্তত ১০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় সংকট বাড়তে পারে।

চুক্তি নিয়ে কি বলছে বাকি বিশ্ব? : বিশ্বের প্রধান প্রধান শক্তিগুলো এতদিন কার্যকর কিছু করতে না পারলেও এ চুক্তিকে সাধুবাদ জানিয়েছে। চীন, সৌদি আরব, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও স্পেন এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুদ্ধে যুদ্ধবিরতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং এই অঞ্চলে একটি “টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো”র ভিত্তি স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সকল পক্ষকে অনুরোধ করেছেন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি একে ‘কূটনীতি ও কাণ্ডজ্ঞানের এক সময়োপযোগী জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। জি ৭ নেতারা একটি যৌথ বিবৃতিতে চুক্তিটিকে একটি “সাফল্য” এবং “ঐতিহাসিক সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব : বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। যুদ্ধ থামার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ কমবে- এ আশায় ওয়াল স্ট্রিটের মূল সূচকগুলো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিন ও গাজার চিত্র : যুদ্ধবিরতির এ আবহ যখন তৈরি হচ্ছে, তখনো গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন থামেনি। গাজায় ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ আরও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার তিনজনে পৌঁছেছে।

ঐতিহাসিক কূটনীতি : নতুন উচ্চতায় পাকিস্তান : ইরান যুদ্ধ অবসানে ইসলামাবাদ যে পরিপক্বতা দেখিয়েছে তা বিশ্ব রাজনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথম ঘোষণা করেন দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে। এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ‘এ চুক্তিতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।’ পাকিস্তানের এ যুগান্তকারী মধ্যস্থতার পর বিশ্বনেতাদের প্রশংসায় ভাসছে দেশটি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান অসাধারণ মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কাতার ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আলে ছানিও ইসলামাবাদের ভূমিকাকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এ সাফল্যের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পাকিস্তান ও কাতারকে অভিনন্দন জানিয়ে একে ‘শান্তির বড় সুযোগ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কস্তা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কুয়েত ও নেদারল্যান্ডসের নেতারা পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাকিস্তান, কাতার ও সৌদি আরবের সমন্বিত কূটনীতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

দু’মাসের রূপরেখা : চুক্তির শর্তাবলি : এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। মূল শর্তগুলো হলো : ক. চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে, যা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বিনিময়ে ইরান অবিলম্বে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে।

খ. চুক্তির সবচেয়ে বড় চমক হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্থগিত রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি নগদ অর্থ স্থানান্তর, আঞ্চলিক দেশগুলোর আর্থিক সহযোগিতা এবং বিশেষ ঋণসুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়াও চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।

গ. পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান সম্মত হয়েছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেহরান অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনার সম্প্রসারণ থেকে বিরত থাকবে। তবে সবচেয়ে বড় ছাড় হিসেবে ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ লঘু (ডাইলিউট) করার অনুমতি দেবে। একই সাথে ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ১০৬ দিনের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান নিঃসন্দেহে বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত অনেক সমীকরণই বদলে যেতে পারে। এক দিকে যেমন হরমুজ প্রণালীর শুল্ক ও মাইন অপসারণের মতো প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে, অন্য দিকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এ চুক্তি নস্যাৎ করার তীব্র হুমকি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ ভঙ্গুর শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে নাকি এটি কেবলই একটি সাময়িক ‘সমঝোতার আড়ালে ভুল বোঝাবুঝি’ হয়ে থাকবে, তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক পরিপক্বতার ওপর নির্ভর করছে। আগামী দিনগুলোতে তা স্পষ্ট হবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।