সংস্কৃত ‘নৃ’ থেকে ‘নারী’ শব্দটির উৎপত্তি (নৃ+ঈ=নারী)। ‘নারী’ কথাটি প্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী-লোকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। প্রসঙ্গত ‘নারী অধিকার’ বলতে সমগ্র ‘স্ত্রী’ জাতির প্রাপ্য ও ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে বোঝানো হয়। আর কোনটা প্রাপ্য বা ন্যায়সঙ্গত অধিকার তা নিয়েই বিতর্ক চলছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। কিন্তু কোন উপসংহারে আশা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি বরং এ বিষয়ে বিতর্ক ও জটিলতা আগের তুলনায় বেড়েছে।
ধর্ম, বিশ্বাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, চিন্তা ও আদর্শগত পার্থক্যের কারণে নারী অধিকার নিয়ে ভিন্নভিন্ন অবস্থান ও বিস্তর মতপার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়। এক পক্ষের কাছে যা অধিকার, অপরপক্ষের কাছে তা অনাধিকার বলে বিবেচিত হয়। কেউ কেউ পুরুষের সমান্তরালীকরণকেই নারীর প্রকৃত অধিকার বলে মনে করেন। এদের পক্ষ থেকেই এসেছে উভলৈঙ্গিক পোষাকের ধারণা। তারা মনে করেন পুরুষ-নারী উভয়ই মনুষ্য প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত। তাই পুরুষ-নারীর মধ্যে কোন পোষাকী পার্থক্য থাকার যৌক্তিক ও কাক্সিক্ষত নয়। তাদের ভাষায়, যে পোষাক লিঙ্গ নির্দেশ করে তা বৈষম্যমূলক ও মানবতার অপমান। আবার পক্ষ বিশেষ নারীর সমঅধিকারের পক্ষপাতি। তারা মনে করেন পুরুষ-নারীকে কোন ভাবেই সমান্তরাল করা যাবে না। শুধু অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা আনাই যুক্তিযুক্ত। কারণ, সৃষ্টিগতভাবে উভয়ে মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা সমান্তরালের ভাবনা বাতুলতা মাত্র।
তারা মনে করেন পুরুষ যা পারে নারীর পক্ষেও তা করা সম্ভব। তাই সকল ক্ষেত্রেই পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত হওয়া দরকার। শিক্ষা-দীক্ষা, পেশা-কর্মে, রাজনীতিতে, ক্ষমতায়নে, সামাজিকতায়, পারিবারিক জীবন, লোকাচার ও চলাফেরায় পুরুষরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, নারীদের ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত করতে হবে। আবার বিশেষ পক্ষ সমঅধিকার নয় বরং নারীর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে। তারা মনে করেন নারী-পুরুষের মধ্যে সৃষ্টিগত যে পার্থক্য রয়েছে তা কোন ভাবেই সমান্তরাল করার সুযোগ নেই। খুব সঙ্গত কারণেই পুরুষ ও নারীর মধ্যে দায়িত্ব, কর্ম ও অধিকারগত ভিন্নতা রয়েছে। তাই ন্যায্য অধিকারের ধারণাটাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। সৃষ্টির আদিকাল থেকে চলে আসা নারী অধিকার বিষয়ক এসব মতপার্থক্যের বিষয়ে একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কোন একক ও অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়নি। এটিকে সভ্যতার ব্যর্থতা বললেও অত্যুক্তি হবে না।
প্রথমেই আলোচনা আসা যায় নারীকে পুরুষের সমান্তরাল মনে করা এবং সমঅধিকার বিষয়ে। মূলত এ দু’টো ধারণায় ত্রুটিপূর্ণ মনে করার যথেষ্ট উপদান বিদ্যমান রয়েছে। কারণ, মানুষে মানুষে সমান্তরাল হওয়ার সুযোগ নেই। কোন পুরুষ যেমন অপর পুরুষের সমান্তরাল নন, ঠিক তেমনিভাবে কোন নারীও অপর কোন নারীর সমান্তরাল হতে পারেন না। আর নারীকে পুরুষের সমতুল্য বা পূরুষকে নারীর সমতুল্য করার চিন্তা করাকে এক ধরনের বিকারগ্রস্থতা বলা যায়। কারণ, নারী-পুরুষ যে-ই হোন না কেন তারা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা স্বত্ত্বা। প্রত্যেকের অবয়ব, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ব্যক্তিত্ব, মেধা, মনন, কর্মতৎপরতা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞা, রুচী-অভিরুচী, শক্তি-সামর্থ ও কর্মপরিধিও ভিন্নতর। তাই এক মানবস্বত্ত্বা অপর মানবস্বত্ত্বার সমান্তরাল হওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। আর সমঅধিকারের ধারণা তো আরও বেশি ত্রুটিপূর্ণ। এ ধারণা কোন ভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।
বস্তুত, মানুষের অধিকার কখনো সমান হয় না। চাই সে পুরুষ হোক বা নারী। পৃথিবীতে যত মানুষ অধিকারও তত ধরনের। যে অধিকার পিতার রয়েছে, সে অধিকার সন্তানের নেই; পক্ষান্তরে যে অধিকার সন্তানের রয়েছে সে অধিকার পিতার নেই। একইভাবে মা-মেয়ের অধিকারও সমান নয়। মূলত নারী-পুরুষ সমঅধিকার তো দুরের কথা পুরুষে-পুরুষেও তো অধিকার সমান নয়। সঙ্গত, কারণেই কোন পুরুষ অফিসের ডিসি; অপর পুরুষ চাপরাশি। কেউ প্রধান শিক্ষক, কেউ সহকারি আর কেউ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি। এরা প্রত্যেকেই পুরুষ বা নারী হলেও অভিজ্ঞান ও পদ মর্যাদার কারণেই কর্মে, অধিকারে, দায়িত্বে ও মর্যাদায় এক ও অভিন্ন নন। একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, সমঅধিকারের ধারণাটা ইতর প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারলেও মানুষের জন্য কোন ভাবেই প্রযোজ্য নয়। কারণ, পশুতে পশুতে কোন স্তর বিন্যাস না থাকলেও মানুষে মানুষে স্তর বিন্যাস রয়েছে সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই। এটি অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতা। আর এ বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসার কোন সুযোগ নেই।
নারী অধিকার নিয়ে এ বিস্তর মত পার্থক্য ও রকমফেরের কারণেই ১৯১০ সাল থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে নারী দিবস পালিত হয়ে আসছে। সারা বিশ্বেই ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও দিনটি নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয় প্রতিবারই। চিরাচরিত নিয়ম ও প্রথা অনুযায়ী দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন বাণী দেন। কিন্তু নারী অধিকার বিষয়ক জটিলতা ও মতপার্থক্য রয়ে গেছে পুরনো বৃত্তেই।
আমাদের দেশে নারী অধিকার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা থাকলেও এক্ষেত্রে আমাদের বড় বড় অর্জন আছে বলে প্রচার-প্রচারণা রয়েছে। বিশেষ করে সব সরকারের পক্ষেই এ প্রচারণা চালানো হয়। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে সরকারের পক্ষে দাবি করা হয়, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের নারী উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড, প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ, শিক্ষায় লিঙ্গসমতা আনার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ এবং গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। এসব আমাদের দেশে নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এসব দাবি অনেকটাই কিতাবী। কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই। কারণ, আমরা নারীকে যথাযথ মর্যাদায় এখনো প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। সমস্যা যে তিমিরে ছিলো সে তিমিরেই রয়ে গেছে।
তবে আমাদের দেশে নারী অধিকারের অগ্রগতির বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যদিও এক্ষেত্রে বিচ্যুতিটাও নেহাত কম নয়। কারণ, নারীর প্রতি সহিংসতা আগের তুলনায় অনেকাংশেই বেড়েছে। এরপরও অর্জনগুলোকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। নিকট অতীতেই, আমাদের সংসদ নেত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন নারী। এমনকি জাতীয় সংসদ সহ সকল নির্বাচনে সকল পদেই যদি নারীরা নির্বাচিত হন আইন সংবিধান বা আইন সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। এমনকি নারীদের ক্ষেত্রে সবকিছু অবারিত রাখার পরও তাদের জন্য সংরক্ষিত কোটা রয়েছে। চাকুিরর ক্ষেত্রেও একই কথায় প্রযোজ্য। আর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নারী হওয়ার কারণে কোন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তেমনটা নেই বললেই চলে। কালেÑভদ্রে ব্যতিক্রমী কোন ঘটনা ঘটলেও পুরুষরা এসব প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত নন।
রাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী আমরা নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাইল ফলক স্পর্শ করলেও তা এখনও সমস্যা মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে তথাকথিত নারীবাদীরাই এই সমস্যাটিকে অমিমাংসিত রেখেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মে ও পারিশ্রমিকে সমতা, পুরুষের সমান্তরালে রাজনৈতিক অধিকার, শিক্ষা ও চাকুরিতে যোগদানের সমান অধিকার নিয়ে বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে তেমন মতপার্থক্য নেই। মতপার্থক্যটা রয়ে গেছে নারীর পারিবারিক ও তার দাম্পত্য জীবনের অধিকার-অনাধিকার বিষয়ে। আর এ বিষয়টিকেই পরিকল্পিতভাবেই জিইয়ে রেখেছে তথাকথিত প্রগতিবাদীরা। তারা সকল ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের সমকক্ষ করতে চান। যদিও তা বাস্তবসম্মত নয়।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমঅধিকারের ধারণাটাই বেশ ত্রুটিপূর্ণ। কারণ, ব্যক্তি বিশেষে অধিকারের ভিন্নতা রয়েছে। মূলত তথাকথিত নারী অধিকারের ধারক-বাহকরা নারী ও পুরুষের সম্পর্ককে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে, মনে হয় নারী-পুরুষ ভিন্নভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা; একে অপরের প্রতিপক্ষ। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। বস্তুত, পুরুষ-নারীতে যে প্রীতির সম্পর্ক পুরুষে-পুরুষে বা নারীতে-নারীতে কল্পনা করাও সম্ভব নয়। নারী-পুরুষের অকৃত্রিম ভালবাসা ও প্রীতিই সভ্যতা এবং সৃষ্টির ধারাবাহিকতার রক্ষাকবজ। আর আমরা তো আমাদের পিতামাতার ভালবাসার ফসল; যুদ্ধবিগ্রহের নয়। তাই সমঅধিকারের কথা বলে পুরুষ ও নারীকে পরস্পরের মুখোমুখী দাঁড় করানো সমাজ-সভ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকী। অবশ্য কোন কোন ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। আর ব্যতিক্রম কখনো ঐতিহ্য নয়, হতে পারে না।
একথাও অশ্বীকার করা যাবে না যে, আমাদের এ ক্ষয়িষ্ণু সমাজে কোন কোন ক্ষেত্রে নারীরা নানাবিধ বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। সামাজিক অন্যায়, উৎপীড়ন, লাঞ্চনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। পারিবারিক পরিমণ্ডলে দৃশ্য-অদৃশ্য, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শত অবমাননা, নিপীড়ন-নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন। সীমিত পরিসরে হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রেও এধরনের বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। আর এসব সমস্যা নারী-পুরুষের সমঅধিকার থিউরীর মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয় বরং এজন্য আমাদেরকে দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন আনা দরকার।
মূলত পাশ্চাত্যে নারী প্রগতির প্রধান ধারণা এসেছিল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও চার্চের পক্ষ থেকে। রেনেসাঁ পরবর্তী ব্যক্তি স্বতন্ত্রবাদ, অষ্টাদশ শতাব্দীর যুক্তিবাদ এবং উদার নৈতিকতার পরিপ্রেক্ষিতে পাশ্চাত্য লোকাচারের প্রভাব ছিল কম। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে নারী প্রগতির প্রধান বাধা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে না আসলেও এক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদাসীনতাও কম দায়ি নয়। কেউ কেউ নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রধান অন্তরায় মনে করলেও বাস্তবতার সাথে তা মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয় বরং ধর্মীয় জ্ঞানের অপ্রতুলতা, কুপমন্ডুকতা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, ধর্মের অপব্যাখ্যা ও অপ্রয়োগই এজন্য প্রধানত দায়ি করা যেতে পারে।
মূলত মাত্রাতিরিক্ত অবক্ষয়, মূল্যবোধের বিচ্যুতির কারণেই আমাদের সমাজে নারীরা অধিকার বঞ্চিত, অবহেলিত ও উপেক্ষিত। নারী-পুরুষের সমঅধিকারের পক্ষে কথা বলা হলেও এক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকারের ধারণাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত। তাই একথা বললে অত্যুক্তি হবার কথা নয় যে, নারী-পুরুষ কর্মে, দায়িত্বে ও অভিজ্ঞানে কেউই কারো সমকক্ষ নয় বরং তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে একে অপরের চেয়ে শ্রেয়তর। নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে যে সৃষ্টিগত তফাৎ বা পার্থক্য রয়েছে তা কোন ভাবেই সমান্তরাল করা যাবে না; সম্ভবও নয়। কেউ কেউ নারী ও পুরুষকে পরস্পরের সমকক্ষ করার জন্য উভলৈঙ্গিক পোষাকের দাবি তুলেছেন তাও রীতিমত হাস্যকর। পাগলের প্রলাপ বললেও অত্যুক্তি হবার কথা নয়। আপেল-কমলা ফল হলেও ‘ফল’ শিরোনাম দিয়ে একই মোড়কে রাখলেও ফল দু’টির স্বাদ, গন্ধ ও খাদ্যপ্রাণ এক ও অভিন্ন হয়ে যায় না। যেমনিভাবে উভলৈঙ্গিক পোষাক দিয়ে নারী-পুরুষের সৃষ্টিগত তারতম্য একাকার করাও সম্ভব নয়, ঠিক তেমনিভাবে সমঅধিকারের কথা বলে ডাঙার প্রাণীকে পানিতে নামিয়ে, পানির মাছকে ডাঙায় তুলে বাঁচানোও সম্ভব নয়। এসব বাস্তবতা বিবর্জিত আলীক চিন্তার ফসল।
মহল বিশেষ ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রধান অন্তরায় বলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে তা যৌক্তিক বলে মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে বিংশ শতকে ধর্মীয় বিশেষ করে ইসলামী স্কলারগণ নারী অধিকার নিয়ে ইসলামের অবস্থান স্পস্ট করেছেন এবং পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে সমান্তরাল এবং একে অপরের পরিপূরক ও সহায়ক তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
একথা বলা ঠিক হবে না যে, নারীরা তাদের অধিকার যথাযথভাবে ভোগ করতে পারছেন। তবে নারীর ক্ষমতায়ন, রাজনীতি, চাকুরি-বাকুরীতে নারীরা ব্যাপকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে যেসব অভিযোগ রয়েছে তা পুরোপুরি সত্য নয় বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণ ও নানাবিধ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তারা ক্ষেত্র বিশেষে পুরুষের চাইতে অধিক সুবিধাভোগী। কিন্তু প্রশ্ন রয়েছে পারিবারিক জীবন নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে নারীরা পারিবারিকভাবে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দাম্পত্যসঙ্গীদের কাছে জবাবদিহিতা ও অধিনস্ততাকে মহল বিশেষ্যে বৈষম্য বলে বিবেচনা করা হয়। আর এটিও কোন যৌক্তিক কথা নয়। কারণ, মানুষ কখনোই জবাবদিহিতার উর্দ্ধে নয়। একজন নারী শুধুু পারিবারিক পরিসরেই জবাবদিহিতা করেন। কিন্তু একজন পুরুষের জবাবদিহিতার ক্ষেত্র বহুমাত্রিক। আমাদের ঐতিহ্য অনুযায়ি পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব থাকার কারণেই পুরুষ পরিবার প্রধান। তিনি হন তার সঙ্গীনির চেয়ে জ্যেষ্ঠ, অধিকতর যোগ্য ও দায়িত্ব পরায়ন। তাই পারিবারিক শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচারের জন্য একজন পুরুষ নারীর চেয়ে প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য। অবশ্য তাও শুধুই প্রতীকি। প্রভূ-ভৃত্য পর্যায়ের নয়।
আমাদের সমাজে নারীরা পরিপূর্ণ অধিকার ভোগ করছে একথা বলা যাবে না। অনেক ক্ষেত্রেই তারা নানাবিধ বৈষম্য ও প্রতিকূলতার শিকার হয়ে থাকেন। এজন্য আমাদেরকে অবশ্যই দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টাতে হবে। মনে রাখতে নারীরা পুরুষের মতই মানুষ; একই স্রষ্টার সৃষ্টি। নারীদেরকে পারিবারিক পরিসরে ক্রীতদাসী মনে করার সুযোগ নেই। পুরুষদের মাথা ব্যথা হলে কিছু একটা আশা করা হয়। কিন্তু সকলকে একথাও স্মরণ রাখা দরকার নারীরা কিন্তু মস্তকবিহীন মানবী নন। মাথাব্যথা তাদেরও হতে পারে। তাই আসুন দৃষ্টিভঙ্গী বদলাই; বিশ্বই বদলে যাবে।
www.syedmasud.com