॥ মুহাম্মদ খায়রুল বাশার ॥
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশার এখনো কোনো সমাধান হয়নি। বছরের পর বছর তারা নিজেদের ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে অমানবিকভাবে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সেখানকার মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করেছে। এই বিষয়টি বিশ্বব্যাপী সবারই জানা আছে। কিন্তু সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) একটি নতুন প্রতিবেদনে এই সঙ্কটের একটি অন্ধকার এবং আরো জটিল দিক উন্মোচিত হয়েছে। রোহিঙ্গারা শুধু পুরনো গণহত্যাকারী রাষ্ট্রের হাতেই নিপীড়িত হয়নি; তারা এখন আরাকান আর্মি নামে পরিচিত জাতীয়তাবাদী শক্তির কাছেও অরক্ষিত। এই আরাকান আর্মিই এখন সামরিক জান্তাকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চাচ্ছে।
‘আরাকান আর্মি’ রোহিঙ্গাদের সামনে এখন নতুন দুঃস্বপ্ন। যেখানে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে সেখানেও রোহিঙ্গাদের কোনো নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নেই।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বুচিডং টাউনশিপের হায়ারসিরি গ্রামে ২০২৪ সালের ২ মের হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। সেখানে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা মিয়ানমারের সামরিক ঘাঁটির কাছে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টারত নিরস্ত্র রোহিঙ্গা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালিয়েছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা নিহত বা নিখোঁজ ১৭০ জনেরও বেশি গ্রামবাসীর একটি তালিকা তৈরি করেছে, যার মধ্যে ৯০ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে এবং প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সম্ভবত আরো বেশি। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন যে, নর্দমায় লাশ পড়েছিল, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে গ্রামটিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। ওই সহিংসতা থেকে বেঁচে গিয়ে কিছু ব্যক্তি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ার পরেই এই বিবরণগুলো সামনে আসে।
মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, এই হামলাটি যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
এই বিষয়টি শুধু গণহত্যার ভয়াবহতার কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি রাখাইন রাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যা প্রকাশ করে, তার জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ। আরাকান আর্মি কোনো প্রান্তিক শক্তি নয়। এটি মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত হয়েছে এবং রাখাইনের বিশাল অংশ দখল করেছে। অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এটাকে প্রধানত সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দৃষ্টিকোন থেকেই দেখেছে। এটা বোধগম্য যে, একটি সশস্ত্র গ্রুপ একটি সামরিক এক নায়কতন্ত্রের বিরোধিতা করতে পারে কিন্তু তারা এখনো সংখ্যালঘুদের ওপরও নির্যাতন চালাচ্ছে-এটা অগ্রহণযোগ্য। তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার অস্বীকার করে কি বিদেশে নিজেদের বৈধতা চাইতে পারে?
রোহিঙ্গারা এই বিষয়টি অন্য সবার চাইতে ভালো জানে। তারা দশকের পর দশক ধরে নিজেদের বাড়িঘরে নিপীড়িত হয়ে জীবন কাটিয়েছে। মিয়ানমার রাষ্ট্র তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে, বর্ণ বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তাদের চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। তাদেরকে ব্যাপক সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিপীড়নের শিকারে পরিণত করেছে।
২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ এবং গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল। বিশ্ব অবশেষে এই অপরাধদের কথা স্বীকৃতি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং অপরাধ আদালতে মামলাগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে যায়। তবুও জবাবদিহিতা ধীর এবং মাঠপর্যায়ে সুরক্ষা প্রায় অস্তিত্বহীন।
এখন রাখাইনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বের করে দেবার অন্তর্নিহিত যুক্তিও উধাও হয়ে যায়নি। আরাকান আর্মি নিজেদেরকে রাখাইনের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়াইরত একটি বিপ্লবী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে। কিন্তু যদি তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিভঙ্গিতে রোহিঙ্গাদের বাদ দেয়া হয় তাহলে সেটা কোনো মুক্তি বা স্বাধীনতা হবে না সেটা হবে জাতিগত আধিপত্যের আরেকটি রূপ। রাখাইনের যেকোনো ভবিষ্যৎ কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা এই নয় যে, তারা সামরিক জান্তার বিরোধিতা করে কি না। বরং তারা সব বেসামরিক নাগরিককে সুরক্ষা প্রদান, সব সম্প্রদায়ের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং সংঘটিত অপরাধের জন্যে জবাবদিহিতা স্বীকার করে কি না।
এখান থেকেই আন্তর্জাতিক নীতি তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়েছে। বেশির ভাগ কূটনৈতিক মহল রোহিঙ্গা সঙ্কটকে এমনভাবে দেখে যেন মূল প্রশ্নটি হলো শরণার্থীরা ফিরতে পারবে কি না। কিন্তু এখনো পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। যদি সেই অঞ্চলটি এমন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকে যারা রোহিঙ্গা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া এবং বেঁচে ফেরা মানুষদের বাড়ি ফেরার অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্যে অভিযুক্তÑ তাহলে রোহিঙ্গারা সেখানে কিভাবে ফিরে যাবে? হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে যে হায়ারসিরি হত্যাকা-ের অনেক জীবিত ব্যক্তি এখনো ফিরতে পারছেন না এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আরাকান আর্মির হাতে কার্যত আটক রয়েছেন।
এতে প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত যেকোনো সরলীকৃত আলোচনার অবসান হওয়া উচিত। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিশাল অবদান রেখেছে। এটা স্বাভাবিক যে, ঢাকা তাদের প্রত্যাবর্তন চায়। কিন্তু নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা, ক্ষতিপূরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ছাড়া ফিরে যাওয়া কোনো সমাধান নয়। এটি নতুন করে সংঘাতের পথ খুলে দেবে। একজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে এমন একটি গ্রামে ফিরতে বলা যায় না, যার কোনো অস্তিত্ব নেই, এমন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্তৃত্বাধীনে তাদেরকে ফিরতে বলা যায় না, যারা গণহত্যার দায় অস্বীকার করে এবং এমন একটি দেশে যে দেশ তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়।
বিশ্ব রোহিঙ্গা সঙ্কটের কখনো কোনো প্রকৃত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরি করেনি। পরিবর্তে, এটিকে কেবল নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধ রাখার নীতিতেই সন্তুষ্ট থেকেছে।
নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধ রাখার অর্থ হলো রোহিঙ্গাদের বাঁচিয়ে রাখা, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অদৃশ্য করে রাখা। এর অর্থ হলো শরণার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্যে জনাকীণ্র্ শিবিরে আটকে রাখা এবং একই সাথে এটা নিশ্চিত করা যে, তারা যেন আইনত অবাধে ভ্রমণ করতে বা স্বাধীন ভবিষ্যৎ গড়তে না পারে। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশের ওপর এক অসম্ভব বোঝা চাপিয়ে দেয়ার প্রত্যাশা করা, অথচ দাতাদের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম জীবনধারণের জন্যে সহায়তা ক্রমাগতভাবে কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। এর অর্থ হলো রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে না দেখে, একটি মানবিক ব্যবস্থাপনা ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা। এর পরিণতি এখন মারাত্মক হয়ে উঠছে।
বর্তমানে কক্সবাজারে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে বসবাস করছে। পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক দাতাদের অনুদান কমে যাওয়ায় খাদ্য সহায়তা হ্রাস পেয়েছে এবং এই কারণে অনেক পরিবার আরো গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তরুণ রোহিঙ্গারা যারা শিবিরে প্রায় একদশক কাটিয়েছে, তারা মর্যাদা বা আত্মনির্ভরশীলতার কোনো পথ দেখতে না পেয়ে ক্রমেই হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে।
একই সময়ে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্যে দেশটি আরো অনিরাপদ হয়ে গেছে। সামরিক জান্তা দেশজুড়ে একটি নৃশংস গৃহযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। রাখাইন রাজ্য সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে একটি সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। গোটা সম্প্রদায়কে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। দুঃখজনক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যাকে সম্ভব করে তোলা রাজনৈতিক পরিস্থিতির মৌলিকভাবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। নাগরিক অধিকারের বিষয়টি অমীমাংসিত রয়ে গেছে। জবাবদিহিতা এখনো অসম্পূর্ণ। মিয়ানমারের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই রোহিঙ্গাদের বর্জন বা বাদ দেবার আদর্শিক কাঠামো দৃঢ়ভাবে প্রোথিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আরাকান আর্মিকে কেবল একটি সামরিক শক্তি হিসেবে গণ্য করা বন্ধ করে আইনগত বাধ্যবাধকতাসহ একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা শুরু করতে হবে। তারা এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত হতে চাইলে তাদেরকে মানবিক সহায়তা প্রাপ্তি, কূটনৈতিক স্বীকৃতি বা ভবিষ্যতে পুনর্বাসনে ভূমিকা পালনের জন্যে অবশ্যই মৌলিক শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। তাদেরকে অবশ্যই স্বাধীন তদন্তকারী দলকে বেঁচে যাওয়া মানুষ ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং তাদেরকে এটা স্পষ্ট করতে হবে যে, রোহিঙ্গারা রাখাইনের ভবিষ্যতের অংশ এবং তারা এর বিরুদ্ধে কোনো বাধা নয়।
এটি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে দায়মুক্ত করে না। রোহিঙ্গা গণহত্যা এবং মিয়ানমারের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্যে সামরিক জান্তাই প্রধান অপরাধী। জান্তার অপরাধের কারণেই রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রহীন, আটকেপড়া এবং চতুর্দিকে সর্বাত্মক আক্রমণের শিকার হয়েছে। কিন্তু জবাবদিহিতা বেছে বেছে হতে পারে না। যদি শুধু সামরিক জান্তার অপরাধেরই নিন্দা করা হয়, অপর দিকে জান্তাবিরোধী শক্তির অপরাধকে ক্ষমা করা হয় বা লঘু করে দেখা হয়, তাহলে রোহিঙ্গারা বারবার রাজনৈতিক সুবিধার কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আসিয়ান, জাতিসঙ্ঘ, পশ্চিমা সরকার এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র সবাইকেই তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্যে মানবিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। রাখাইনে সংঘটিত অপরাধের তদন্তে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আরাকান আর্মিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পৃক্ততাকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার সাথে যুক্ত করতে হবে। মিয়ানমারে ভবিষ্যতের যেকোনো রাজনৈতিক নিষ্পত্তিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং নিরাপত্তার জন্যে বলবৎ যোগ্য নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
রোহিঙ্গা সঙ্কট আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ব্যর্থতাকে উন্মোচিত করেছে। ২০১৭ সালের আগে কী ঘটেছিল তা বিশ্ব জানত, কিন্তু গণহত্যা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০১৭ সালের পরে কী ঘটেছে তাও বিশ্ব জানত, কিন্তু যথেষ্ট দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ব এখন জানে যে, রোহিঙ্গারা কেবল তাদের বিতাড়নকারী সেনাবাহিনীর কাছ থেকেই নয়, বরং যে ভূমিতে তাদের ফিরে যাওয়ার কথা, সেই ভূমি শিগগিরই শাসন করতে পারে এমন শক্তির কাছ থেকেও বিপদের সম্মুখীন।
হায়ারসিরির গণহত্যা একটি মোড় ঘোরানোর ঘটনা। এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন যে, শুধু সামরিক জান্তার পরাজয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান হবে না। একজন অত্যাচারীর পতন স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয় না, যদি তার জায়গায় আরেকজন জালেম এসে শূন্যস্থান পূরণ করে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা শুধু পতাকা বা পোশাকের পরিবর্তনের মাধ্যমে আসবে না। এটি কেবল তখনই আসবে, যখন রাখাইনের প্রতিটি সশস্ত্র শক্তিকে এটা বোঝানো হবে যে, তাদের বৈধতা নির্ভর করে তাদের শাসিত জনগণকে রক্ষা করার ওপর। আর এ জন্যে জাতিসঙ্ঘেরও জোরালো ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গাদের হারানোর কিছু নেই। তারা ইতোমধ্যেই গণহত্যা, নির্বাসন এবং বর্জনের মতো পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরেছে। সেই একই পুরনো ঘৃণার ওপর নির্মিত নতুন ব্যবস্থায় তাদের টিকে থাকতে বলা উচিত নয়। সর্বোপরি রোহিঙ্গা সঙ্কটের কেবল মানবিক নয়, রাজনৈতিক সমাধান অত্যাবশ্যক।
লেখক : সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজে।