ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বিনীত জোশিকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নরেশ পাল গাঙ্গওয়ার। খবর এনডিটিভির
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে জারি করা কেন্দ্রীয় সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিনীত জোশিকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
সরকারের এই প্রশাসনিক রদবদলে মোট ১৩টি নতুন নিয়োগ এবং চারটি ইন-সিটু পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব টি কে অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব করা হয়েছে।
এই পরিবর্তন এমন সময়ে এলো, যখন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলো প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করছে। তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।
ক্ষমতাসীন বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় উদাসীনতা দেখানোর কারণেই শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে উদাসীনতা দেখানোর কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষা সচিবকে বদলি করেছেন। প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ীদের পাশাপাশি যারা অবহেলা বা উদাসীনতা দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটাই মোদির গ্যারান্টি।’
এদিকে প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার আরও কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রশাসনিক এই রদবদলের কয়েক ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন।
রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শুক্রবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হবে এবং আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে একটি বিল সংসদে পাসের চেষ্টা করবে সরকার।