বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে দ্রুত জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হলে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি আদায় করা হবে।

আজ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মোহাম্মদপুর থানা পশ্চিমের উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য (রুকন) সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রথম পরিচয় হতে হবে আদর্শবান, সৎ, আমানতদার ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে। তাকওয়া, ইখলাস, শৃঙ্খলা, জ্ঞানচর্চা, আত্মত্যাগ এবং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকার গুণাবলী একজন কর্মীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নে কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সফলতা অর্জনে কর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করার মধ্যেই একজন প্রকৃত কর্মীর পরিচয় নিহিত।

তিনি রুকনদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংগঠনের আদর্শিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে এবং দ্বীনের দাওয়াত ও জনসেবামূলক কার্যক্রম প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি সকল সদস্যকে দায়িত্বশীলতা, ঐক্য ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য প্রফেসর শায়খ ড. মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি জনাব মোঃ ইয়াসিন আরাফাত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদপুর থানা পশ্চিমের আমীর জনাব মোঃ মাসুদুজ্জামান।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন থানা বায়তুলমাল সেক্রেটারি ইবাদত হোসাইন, শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য রুহুল আমিন, মুতাসিম বিল্লাহ, সাইফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন মিজান, আবুল কালাম আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম রনি, অফিস সম্পাদক আশরাফুল আলম, পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি আব্দুল আওয়াল, থানা ওলামা বিভাগের সভাপতি মুফতি মারুফ বিল্লাহসহ থানা নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে সংগঠনের আদর্শিক শক্তি বৃদ্ধি, সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।