জলাবদ্ধতা পাাহাড় ধসে প্রাণহানি
চার জেলায় বন্যা
সড়ক-রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মৃত বেড়ে ২৫
চট্টগ্রাম ব্যুরো
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা চতুর্থ দিনের মতো ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধস, পাহাড়ি ঢল এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং পাহাড় ধস, দেয়াল ধস ও পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২১ জন এবং চট্টগ্রামে ৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী আরও তিনদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। শেষ ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৫৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ।
অতিবৃষ্টিতে নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, জুবিলী রোড, গোয়ালপাড়া, ষোলশহর, বড় দিঘীর পাড়, কাতালগঞ্জ, ঈদগাঁও, বহদ্দারহাট, চকবাজার, হালিশহরসহ অসংখ্য এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। আগ্রাবাদে রিকশা ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
টানা বৃষ্টিতে ষোলশহর-জানআলীহাট এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি নেমে রেললাইন নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে না। অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামে পৃথক ঘটনায় পাহাড় ধস ও দেয়াল ধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকু-ে পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম, নগরীর চশমা হিলে ১২ বছরের সামিয়া, রাঙ্গুনিয়ায় এক নারী এবং রহমাননগরে দেয়াল ধসে এক যুবকের মৃত্যু হয়। প্রশাসন পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বান্দরবানে শত শত পরিবার পানিবন্দী
টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সদর, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও লামা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, বালাঘাটা, কাশেমপাড়া, মারমা বাজার নদীপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কোমর থেকে গলা সমান পানি জমে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বহু গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসন পর্যটকদের পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে আশ্রয়কেন্দ্রে শত শত মানুষ
রাঙ্গামাটিতে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৭৪২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। মোট ২১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাঘাইছড়ির বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। একই কারণে এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও যাত্রীদের নৌকায় করে সড়ক পার হতে হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। দীঘিনালার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র জানিয়েছে, গত ১৮ ঘণ্টায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কক্সবাজারে মৃত্যু বেড়ে ২১, উখিয়া ক্যাম্পে একদিনেই নিহত ৮
কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নতুন করে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও আটজন নিহত হওয়ায় জেলায় দুই দিনের ব্যবধানে মোট প্রাণহানি বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-‘এ’-তে মেয়েদের একটি হিফজ খানার ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় রোহিঙ্গা মাঝি দিল মোহাম্মদ জানান, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ভূমিধসের সময় হিফজ খানার ভেতরে ৩০ জনেরও বেশি ছাত্রী অবস্থান করছিল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান দীর্ঘ সময় ধরে চলে। উদ্ধারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
উখিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরআরআরসি নিহতের সংখ্যা আটজন নিশ্চিত করে।
এর আগে গত রোববার রাতেও উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক পাহাড়ধসে আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল। একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ওই ঘটনায় নিহত হন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, দেয়াল ধস ও পানিতে ডুবে আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে কক্সবাজারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে।
এদিকে জেলার নয়টি উপজেলার অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রামু, চকরিয়া, উখিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। টানা চারদিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথ এবং মহেশখালী-কক্সবাজার নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাইকিং করে সবাইকে পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
দুর্যোগ আরও বাড়ার শঙ্কা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনও চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পাহাড় ধস, আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে, পাহাড় ও নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নি¤œাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। উদ্ধারকারী সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যা
সাতকানিয়া সংবাদদাতা: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। সাঙ্গু নদী, ডলু নদী ও হাঙ্গর খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ডিঙিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে উপজেলার অধিকাংশ নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে উপজেলার সর্বত্র বন্যাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে সাতকানিয়া লোহাগাড়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির বর্ণনা করেন। এবং তিনি বানভাসী মানুষের জন্য সরকার যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তার জন্য স্পিকারের রুলিং দাবি করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পুরানগড়, বাজালিয়া, ছদাহা, কেঁওচিয়া, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, নলুয়া, আমিলাইশ, চরতি, খাগরিয়া, এওচিয়া, ঢেমশা, পশ্চিম ঢেমশা, সোনাকানিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সাতকানিয়া পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডেও পানি ঢুকে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বন্যার পানি সাতকানিয়া সরকারি কলেজে প্রবেশ করায় পুরো ক্যাম্পাস হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। কলেজের পূর্ব পাশের সড়ক প্রবল পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া সাতকানিয়া কলেজ রোড ও কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, বন্যার পানি সাতকানিয়া আদালত চত্বরে প্রবেশ করায় বুধবার যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও সাতকানিয়া চৌকি আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশনাল জিপি) রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত কক্ষে পানি প্রবেশ করায় স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অধিকাংশ নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রামে নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়ন কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, শুকনো খাবারের বরাদ্দ রয়েছে এবং জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
হালদার জোয়ার ও টানা বৃষ্টিতে হাটহাজারীতে জলাবদ্ধতা
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং হালদা নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন মির্জাপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উপজেলার মোট ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্যে মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মির্জাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশ্রয় নিতে আসা ব্যক্তিদের শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নি¤œাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘীরপাড় এলাকায় তীব্র পানির স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। হাটহাজারী পৌরসভার কামালপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হালদা নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় নদীর পূর্ব তীরবর্তী বিভিন্ন নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ কারণে প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।