প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সমস্যা থাকবেই। সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ এক সময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল। আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব।

গতকাল সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান। তিনি বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গতিশীল করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া, কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সমন্বয়ে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি কর্পোরেশনসহ মাঠ পর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদখাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।

বিশেষ করে জেলাপর্যায়ে জনবল বাড়ানো, উন্নত মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য আধুনিক সরঞ্জামসহ সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।

উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্কটের কথাগুলো অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এ জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, 'আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন হন না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।'

সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবি উল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে সৌদী সফরের আমন্ত্রণ জানালেন যুবরাজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

হুমায়ুন কবির বলেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সুবিধাজনক সময়ে তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চাই। ইতিবাচক সহযোগিতার মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। এতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ-দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব ও গভীরতারই প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী কবে নাগাদ সৌদি আরব সফর করতে পারেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমন্ত্রণ এসেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করেছেন। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সেটি নির্ধারণ করা হবে। তবে গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফর হতে পারে।