সোসাইটি ফর ন্যাশনাল চ্যারিটি’র (এসএনসি) উদ্যোগে "পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন : বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত" সেমিনার রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে অনুষ্ঠিত হয়। এসএনসি’র চেয়ারম্যান সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।

প্রধান অতিথি ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব পারিবেশিক এক জটিল পরিস্থিতিতে পৌঁছিয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে শব্দ দূষণ নেই সেখানে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। কিন্তু আমাদের দেশে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে শব্দ দূষণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয় না। রাস্তার পাশে নয়তো রাস্তার মাঝখানে আমাদের হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে শব্দ দূষণের কারণে মানুষ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। মায়ের গর্ভে থাকা শিশুটিও নিরাপদ নয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে প্রয়োজনী উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি সাদিক আহমেদ।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সাবেক ভিসি (আরবী বিশ্ববিদ্যালয়) প্রফেসর ড. সামছুল আলম, সোসাইটি ফর ন্যাশনাল সোসাইটির (এসএনসি) উপদেষ্টা এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, আমেরিকান ওয়েলফেয়ার সেন্টারের চেয়ার‌ম্যান মাহবুবুল হক, সিটি ইউনিভার্সিটির ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের ডীন প্রফেসর ড. জুলফিকার হাসান, সাবেক সচিব ড. জাহেদুল ইসলাম, সাবেক আতিরিক্ত সচিব আবদুল হালিম, প্রফেসর জাহিদুর রহমান, এনজিও বিশ্লেষক ও টেইনার খন্দকার জাকারিয়া প্রমুখ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করতে।

সভাপতির বক্তব্যে এসএনসি’র চেয়ারম্যান সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার রাশেদুল হক ১৯৬৮ সালে নিজের বাল্যকালে দেখা বুড়িগঙ্গার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় বুড়িগঙ্গার পানি এতো বেশি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ছিল যা দেখেই মনে হতো নদীতে নেমে গোসল করতে। কিন্তু বর্তমানে বুড়িগঙ্গার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর। বুড়িগঙ্গার পানিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানি পঁচে গন্ধ ছড়াচ্ছে! এই পানি ব্রিটেন-আমেরিকা থেকে কেউ এসে নষ্ট করেনি। এই পানি আমরা নিজেরাই নষ্ট করেছি।

ড. রাশেদুল হক আরও বলেন, একদিকে জনগণের অসচেতনতা অপরদিকে রাষ্ট্রের নিরবতা। দুটিই পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ফলে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের যেই ক্ষতিকর দিক সেটি থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, শুধু বড়িগঙ্গা নয় বরং প্রতিটি নদ-নদী রক্ষা করতে হবে। সুন্দরবনসহ প্রকৃতির বুকে বিদ্যমান সকল বন রক্ষা করতে হবে। পশু-পাখি হত্যা বন্ধ করতে হবে। এজন্য জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি আহ্বান জানান।