গাজীপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঝটিকা মিছিল, কথিত আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন এবং জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় যুবশক্তি ও জাতীয় কৃষক শক্তি। সোমবার বিকেলে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন বরকত সরণির পালের মাঠ (মৃধা বাড়ি) এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারেক, জাতীয় কৃষক শক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান খোকন, মহানগর যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম মাস্টার, গাছা থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিকসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান অভিযোগ করেন, গাজীপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করছে এবং এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থায়ন ও সহযোগিতা করছে। তিনি দাবি করেন, গাছা থানা আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে বিচারাধীন একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তাঁর অভিযোগ, আব্দুর রহিম আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন, চাঁদাবাজি, জমি দখল, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আব্দুর রহিম আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন।

এনসিপি নেতা আরও অভিযোগ করেন, আব্দুর রহিমের দুই ভাই আব্দুল হালিম ও জসিম উদ্দিনসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। একই সঙ্গে যুবলীগের সদস্য মো. জহিরুল, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ কোরাইশি জয়, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাদিম বাবু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমির হামজা, গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাকিব মণ্ডল এবং ছিদ্দিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওলামা লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে পরিচিত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলসহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সালনা, গাছা, বাসন ও রাজেন্দ্রপুর এলাকায় সংঘটিত ঝটিকা মিছিলগুলোর বিষয়ে প্রশাসনকে আগাম তথ্য দেওয়া হলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, কথিত অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে আইন প্রয়োগের দাবি জানান।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, "গাজীপুর মহানগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড বা আইনবিরোধী তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ছাড় পাবে না।"

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, "জেলার অধিক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সর্বক্ষণ সতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিলগুলোর বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গত শনিবারের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া একজনকে শ্রীপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনাক্ত হওয়া অন্যদের গ্রেপ্তারে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু ব্যক্তি ঢাকার দিক থেকে গাড়িতে এসে মহানগর এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে দ্রুত সরে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।"