শুধু বিচার নয় বরং জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা এবং তারা যাতে সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারেন সে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই। জুলাই শহীদদের দিতে হবে জাতীয় বীরের মর্যাদা। তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। কারণ, জুলাই যোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ ফলপট্টি সংলগ্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, , জুলাই এসেছিলো ঘূর্ণিঝড় হয়ে। আর এ ঝড়েই ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে তাসের ঘরের মত উড়িয়ে দিয়েছিলো। তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশ ছেড়ে পালানোর পর তিনি ‘এই আসলাম’ বলে এসেছেন প্রতিনিয়ত। এভাবে তিনি ১৩ বার ফেল করেছেন।
তিনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন যুব সমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে। তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল। তাই সরকারকে জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরাও করেছি। গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদ সবই অবৈধ। গোস্ত হালাল হলেও ঝোল হারাম হওয়ার সুযোগ নেই। তাই গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম। আর সরকার হারাম হলে দেশে কোন বৈধ সরকার নেই। তিনি জনগণের অভিপ্রায়ের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের মতামতই সবার ওপর। আর প্রয়োজনের তাগিদের ওপর কোন আইন নেই। তিনি সরকারকে টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্ণেল (অব.) আব্দুল বাতেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা । বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শান্ত তালুকদার, শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান, শহীদের পিতা মোশাররফ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন, জিয়াউল হাসান, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দীন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, গণরায়কে কোনভাবেই পাশ কাটানোর কোন সুযোগ নেই। তাই জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে সকলকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি জুলাই সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ গ্রহণের কথা। একটি সংসদ সদস্য হিসাবে, আর অপরটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে। এ পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিন্তু সরকার নানা ছলছুতায় এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে তা পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে কথা বলেছেন। তাই জনগণ সরকারকে গণরায় পাশ কাটানোর সুযোগ দেবে না বরং যেকোন মূল্যে তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করবে।
তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।