উত্তর আমেরিকার মাটিতে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘সুপারস্টারদের’ আসর এখন রূপ নিয়েছে চরম নাটকীয়তায়। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলগুলোর এই লড়াইয়ে আজ রাতে নির্ধারণ হবে প্রথম ফাইনালিস্ট। টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স এবং দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তির এই ধ্রুপদী লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে বিদায় করে শেষ চার নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স, অন্যদিকে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।

পরিসংখ্যান ও প্রতিশোধের আবহ:

সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের বিপক্ষে ফরাসিদের স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনাল এবং গত বছরের নেশনস লিগের সেমিফাইনালÑদুইবারই স্প্যানিশদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল দিদিয়ের দেশমের দলকে। তবে একে 'প্রতিশোধের ম্যাচ' হিসেবে দেখতে নারাজ ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "স্পেন অসাধারণ দল, তবে আমরা বিনয়ী থাকতে চাই এবং কোনো ফাঁদে পা দিতে চাই না। কাউকেই ভয় পাওয়ার কারণ নেই।" একই সুর ডিফেন্ডার ম্যাকসেন্স লাক্রোয়ার কণ্ঠেও, যিনি কেপ ভার্দের সাথে ড্র বাদে সব ম্যাচ জেতা স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে মুখিয়ে আছেন।

দুই শিবিরের শক্তি ও তারকাদের হুংকার:

ফরাসি শিবিরের মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলে। নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে দাঁড়িয়ে এমবাপে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "ট্রফি জিতলেই কেবল আমরা শান্ত হতে পারব। নিজেদের 'অপরাজিত দল' প্রমাণ করতে হলে মনোযোগ হারানো চলবে না।" অন্যদিকে, দেম্বেলে ব্যক্তিগত প্রশংসার চেয়ে দলগত সাফল্যকেই এগিয়ে রাখছেন।

স্পেন শিবিরে মূল আকর্ষণ কিশোর সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল এবং মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি। ফরাসি রক্ষণকে চূর্ণ করতে আত্মবিশ্বাসী ইয়ামাল বলেন, "আমরা কাউকেই ভয় পাই না। ফ্রান্সকে যদি কেউ হারাতে পারে, তবে সেটা আমরাই।" চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পাস খেলা রদ্রি অবশ্য ফ্রান্সকে তাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন, তবে নিজেদের শক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এই ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের।

স্পেন কোচের হুংকার ও ফরাসি কোচের কৌশল:

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের হেড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কণ্ঠে ঝরেছে আত্মবিশ্বাস। ফরাসি আক্রমণভাগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ফ্রান্সের এমবাপের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে, যা যেকোনো দলের জন্যই চিন্তার কারণ। তবে আমার দলে ইয়ামাল বা রদ্রির মতো ম্যাচ উইনার রয়েছে, যারা যেকোনো মুহূর্তে খেলার গতিপথ বদলে দিতে পারে। আমরা আমাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে এক চুলও নড়ব না। ফাইনালে যেতে হলে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।"

অন্যদিকে, ফ্রান্সের অভিজ্ঞ কোচ দিদিয়ের দেশম স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ও তরুণ ইয়ামালকে থামানোর ছক কষছেন। সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, "স্পেন এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। ইয়ামালকে আটকানোর জন্য আমাদের ডিফেন্ডারদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আমরা শুধু একজন খেলোয়াড় নয়, পুরো স্প্যানিশ দলটির ওপর নজর রাখছি। আমাদের রক্ষণভাগ (উপামেকানো ও সালিবা) দুর্দান্ত ফর্মে আছে। আমরা আমাদের পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব।"

ইতিহাসের পাতায় পশ্চিম জার্মানির পাশে নাম লেখানোর হাতছানি ফ্রান্সের সামনে, আর স্পেনের সামনে দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন। টেক্সাসের সবুজ গালিচায় আজ ছড়াবে গতির ঝড় আর কৌশলের দাবা খেলা। ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেÑকার মাথায় উঠবে প্রথম ফাইনালিস্টের মুকুট?