সা ক্ষা ৎ কা র : এস এম নুরুজ্জামান
দেশের জীবনবীমা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, আস্থার সংকট দূরীকরণের উপায়, ডিজিটাল রূপান্তর এবং জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক সংগ্রামের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম নুরুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বর্তমানে বীমা খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আস্থার ঘাটতি, দাবি নিষ্পত্তিতে সময়ক্ষেপণ নিয়ে কিছু নেতিবাচক ধারণা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ধীরগতি। তবে সুশাসন, স্বচ্ছতা, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে পারলে জীবনবীমা খাত আরও স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। শরীয়াহসম্মত জীবন বীমা মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কার্যকর ব্যবস্থা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বীমা খাতের শীর্ষ পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা এই দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার মিয়া হোসেন।
দৈনিক সংগ্রাম: দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে জীবনবীমা খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও বর্তমান অবস্থাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
এস এম নুরুজ্জামান: বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিÑ যেমন মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের চাপ এবং আর্থিক বাজারে তারল্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জÑ বাংলাদেশের জীবনবীমা খাতেও কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে সামগ্রিকভাবে আমি মনে করি, এই খাত এখনো স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। মানুষের মধ্যে আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবনবীমার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে খাতটির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আস্থার ঘাটতি, দাবি নিষ্পত্তিতে সময়ক্ষেপণ নিয়ে কিছু নেতিবাচক ধারণা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ধীরগতি। তবে ইতিবাচক দিক হলোÑ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার উদ্যোগ, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বিস্তার এবং বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা। সুশাসন, স্বচ্ছতা, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে পারলে জীবনবীমা খাত আরও স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে পারলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
দৈনিক সংগ্রাম: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু বীমা কোম্পানীর সময় মতো বীমা দাবি পরিশোধ করতে না পারার কারণে জনমনে যে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরী হয়েছে তা দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের মনে বীমা নিয়ে আগ্রহ তৈরী করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আপনাদের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা কী হওয়া উচিত?
এস এম নুরুজ্জামান: আমি মনে করি বীমা খাতে আস্থার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, যা কাটিয়ে উঠতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং শিল্পের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান ভূমিকা হওয়া উচিত সুশাসন নিশ্চিত করা, আর্থিক সক্ষমতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, সময়মতো দাবি নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং তথ্য প্রকাশের মান উন্নয়নও জরুরি। অন্যদিকে, আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করা, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত দাবি পরিশোধ করা এবং প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করা প্রয়োজন। এছাড়া বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচারণা চালাতে হবে। যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি এবং প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও দায়িত্বশীল আচরণ একসাথে কাজ করবে, তখনই জনআস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে এবং বীমা খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
দৈনিক সংগ্রাম: সুশাসন নিশ্চিত করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তন বা সংস্কারের উদ্যোগগুলো আপনাদের ব্যাংকিং বা আর্থিক সহযোগী কার্যক্রমের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?
এস এম নুরুজ্জামান: আমি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখি, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক নীতিগত সংস্কার ও সুশাসন জোরদারের উদ্যোগ। এসব উদ্যোগের ফলে পুরো বীমা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হচ্ছে, যা আমাদের ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগী কার্যক্রমের ওপরও গঠনমূলক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স শক্তিশালী হওয়ায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন ও সমন্বয় আরও সুশৃঙ্খল হয়েছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নত হয়েছে এবং তথ্য প্রকাশের মান বৃদ্ধি পাওয়ায় পারস্পরিক আস্থা আরও দৃঢ় হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হচ্ছে। তবে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ থাকে, যা ধীরে ধীরে অভিযোজনের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সামগ্রিকভাবে আমি মনে করি, এসব সংস্কার বীমা খাতকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও টেকসই কাঠামোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সঙ্গে সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
দৈনিক সংগ্রাম: জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স দেশের জীবন বীমা খাতে সম্পূর্ণ শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে চলেছে এবং দ্রুততম সময়ে বীমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এই তরুণ ও সম্ভাবনাময় ইসলামী জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানের গৌরব, গ্রাহকের অবিচল আস্থা এবং ধারাবাহিক এ সাফল্যের পেছনের মূল চালিকা শক্তি কী?
এস এম নুরুজ্জামান: আমার মতে, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গৌরব, গ্রাহকদের অবিচল আস্থা এবং ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হলো সম্পূর্ণ শরীয়াহসম্মত পরিচালনা, সুশাসন, স্বচ্ছতা, নৈতিকতা এবং গ্রাহকসেবার প্রতি অঙ্গীকার। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুততম সময়ে বীমা দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে, যা জীবন বীমা খাতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি গ্রাহকের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার মানসিকতা জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে একটি সম্ভাবনাময় ও বিশ্বাসযোগ্য ইসলামী জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতেও এই মূল্যবোধ ও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রতিষ্ঠানটি আরও সফলতা অর্জন করবে।
দৈনিক সংগ্রাম: আপনি দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষতম পদে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী বীমা ব্যক্তিত্ব হিসেবে আপনার এই সুদীর্ঘ পথ চলার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষ লিডারশিপ জেনিথ ইসলামী লাইফের অগ্রগতি ও বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরীতে কীভাবে সাহায্য করছে?
এস এম নুরুজ্জামান: আমি বিশ্বাস করি, বীমা খাতে দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা আমাকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতমুখী পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করে। জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শরীয়াহসম্মত কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। একই সঙ্গে গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন, দ্রুত বীমা দাবি নিষ্পত্তি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। আমার লক্ষ্য শুধু একটি সফল প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নয়, বরং এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য ইসলামী জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে গ্রাহকের আস্থা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি মনে করি, দলগত প্রচেষ্টা, নৈতিক নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ই জেনিথ ইসলামী লাইফকে বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের ইসলামী জীবন বীমা খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব।
দৈনিক সংগ্রাম: ক্যাশলেস সোসাইটি বিনির্মাণে এবং প্রযুক্তির এই যুগে প্রান্তিক মানুষের কাছে দ্রুত বীমা সেবা পৌঁছে দিতে জেনিথ ইসলামী লাইফের ডিজিটাল সেবা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (গঋঝ) বা অ্যাপ ভিত্তিক প্রিমিয়াম কালেকশন ও অনলাইন পলিসি নিয়ে আপনাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
এস এম নুরুজ্জামান: ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ধারাবাহিকতায় এবং ক্যাশলেস সোসাইটি বিনির্মাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ বীমা সেবা পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রিমিয়াম পরিশোধ, অ্যাপভিত্তিক প্রিমিয়াম কালেকশন, অনলাইন পলিসি ইস্যু, ডিজিটাল কাস্টমার সাপোর্ট এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির মতো সেবা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহক যেন ঘরে বসেই পলিসি গ্রহণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ, পলিসির তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে জন্য আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং আরও উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগগুলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করবে এবং ইসলামী জীবন বীমাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
দৈনিক সংগ্রাম: দেশের প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যেন তাদের এবং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বৈধ চ্যানেলে প্রবাসে বীমা সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনÑ সেই লক্ষ্যে প্রবাসী গ্রাহকদের জন্য আপনারা বিশেষ কোনো তাকাফুল ইসলামী বীমা পলিসি বা ডিজিটাল সেবার মানোন্নয়ন করছেন কি?
এস এম নুরুজ্জামান: প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাদের এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শরীয়াহসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর বীমা সেবা সম্প্রসারণকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রবাসীরা যেন বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি সহজেই তাকাফুলভিত্তিক জীবন বীমা সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এ জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পলিসি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রিমিয়াম পরিশোধ এবং দ্রুত গ্রাহকসেবার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী গ্রাহকদের প্রয়োজন বিবেচনায় উপযোগী তাকাফুলভিত্তিক বীমা পণ্য ও সেবা উন্নয়নের বিষয়েও আমরা কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি পলিসি বিক্রি করা নয়, বরং প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়ের সুরক্ষা এবং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, সহজ প্রক্রিয়া, দ্রুত সেবা এবং শরীয়াহসম্মত পরিচালনার মাধ্যমে আমরা প্রবাসী গ্রাহকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থার বীমা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দৈনিক সংগ্রাম: দেশের যুব সমাজ ও নারীদের বীমা পেশায় সম্পৃক্ত করতে বা বিশেষ (যেমন ডিপিএস ক্ষুদ্র বীমা) আওতায় আনতে আপনাদের নতুন কোনো উদ্যোগ আছে কি?
এস এম নুরুজ্জামান: অবশ্যই। দেশের যুবসমাজ ও নারীদের বীমার আওতায় আনা এবং বীমা পেশায় সম্পৃক্ত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা বিশ্বাস করি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সহজ, সাশ্রয়ী ও শরীয়াহসম্মত বীমা পণ্য আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্র বীমা, সঞ্চয়ভিত্তিক বীমা পরিকল্পনা এবং স্বল্প প্রিমিয়ামের তাকাফুল সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে আমরা কাজ করছি, যাতে শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নারীরা সহজেই বীমা সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল অ্যাপ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বীমা গ্রহণ ও প্রিমিয়াম পরিশোধ আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণ-তরুণীদের জন্য প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, যুবসমাজ ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শুধু বীমা শিল্পের পরিধিই বাড়াবে না, বরং দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দৈনিক সংগ্রাম: আগামী ৫ বছরে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-কে দেশের আর্থিক ও বীমা বাজারে কোন উচ্চতায় দেখতে চান? দৈনিক সংগ্রামের বিপুল সংখ্যক পাঠকের উদ্দেশ্যে এই মুহূর্তে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা আছে কি?
এস এম নুরুজ্জামান: আগামী পাঁচ বছরে আমি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-কে দেশের অন্যতম শীর্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সর্বাধিক আস্থাভাজন শরীয়াহসম্মত জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা, দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি, উদ্ভাবনী সেবা এবং গ্রাহকসন্তুষ্টির মাধ্যমে বীমা খাতে একটি নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশি, নারী, যুবসমাজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বীমা সেবা পৌঁছে দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই।
দৈনিক সংগ্রামের সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশে আমার আহ্বানÑ বীমাকে শুধু একটি আর্থিক পণ্য হিসেবে নয়, বরং নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার একটি দায়িত্বশীল পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করুন। বিশেষ করে শরীয়াহসম্মত জীবন বীমা মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কার্যকর ব্যবস্থা। আপনাদের আস্থা, পরামর্শ ও সহযোগিতাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি। ইনশাআল্লাহ, সততা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।
দৈনিক সংগ্রাম: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
এস এম নুরুজ্জামান: দৈনিক সংগ্রাম পরিবার এবং পাঠকদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ।