হারুন-আর-রশিদ

একটি নিদিষ্ট সময়ে একটি দেশ, বিদেশে যে পরিমান পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে,তার চেয়ে যদি বেশি পরিমাণ পণ্য ও সেবা বিদেশ থেকে আমদানি করে, তখন তাকে বাণিজ্য ঘাটতি (Trade deficit) বলা হয়। আরো সহজ কথায়, কোনো দেশের মোট রপ্তানি আয় যদি মোট আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম হয়,তবে তাকে বাণিজ্য ঘাটতি বলে। বাজেট কথাটির সঙ্গে কমবেশি সবাই পরিচিত। কিন্তু বাজেট কি বা কত প্রকার সেটা সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা খুব স্বচ্ছ নয়। এক কথায় বললে, বাজেট হচ্ছে একটি দেশের এক বছরের সম্ভাব্য সব আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব-নিকাশ বিবরণী। একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় এবং রাজস্বসহ অন্যান্য সব আয়ের একটি পূর্বাভাসও বলা যায় একে। আয় ও ব্যয় সমান কিনা, সেই প্রশ্নেই রাষ্ট্রের বাজেট দুই রকমের হয়ে থাকে। যেমন: সুষম বাজেট ও অসম বাজেট। সরকারের আয় ও ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে অসম বাজেটকে আবার দুভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হচ্ছে উদ্বৃত্ত বাজেট ও ঘাটতি বাজেট। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে। বাজেটের এ ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঋণ,বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান নিয়ে থাকে।

বাজেট ঘাটতি দুইভাবে পূরণ করা হয় : বৈদেশিক উৎস, এটি মূলত বৈদেশিক ঋণ। এ বছর বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার বিদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সরকার দুভাবে দেশের ভেতর থেকে ঋণ নেয়। যেমন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা। ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা হচ্ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেশি ঋণ নেয়ার দুটি বিপদ আছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারী খাতের জন্য অর্থ থাকবে কম। ফলে বিনিয়োগ কমে যাবে। আর ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিলে বেশি হারে সুদ দিতে হয়। এতে সুদ পরিশোধে সরকারকে বেশি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়। এতে পরের অর্থবছরের বাজেট বেড়ে যায়। সরকার বেশি পরিমাণ ঋণ নিলে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে।

  • মূল হিসাব (Calculation) : আমদানি ব্যয়-রপ্তানি আয় =$ বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit)).
  • বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ( Trade Surplus) : যখন একটি দেশ তার আমদানির চেয়ে বেশি পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে। অর্থাৎ, রপ্তানি আয় > আমদানি ব্যয়। এটি দেশের জন্য অর্থনৈতিক লাভজনক পরিস্থিতির নির্দেশক।
  • ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য (Balance Trade) : যখন একটি দেশের মোট রপ্তানি আয় এবং মোট আমদানি ব্যয় সম্পূর্ণ সমান হয়।

এ বছর সরকার ঘাটতি বাজেট মেটাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। আর ব্যাংক বহির্ভূত ব্যবস্থার আওতায় ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকেও ঋণ নেবে সরকার। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো সাধারণত ঘাটতি বাজেটই মোকাবিলা করে। বাংলাদেশের জন্ম লগ্ন থেকেই ঘাটতি বাজেট মোকাবিলা করেছে। বাংলাদেশে বাজেটে ঘাটতি বেশি থাকাটা আবার ভাল নয়। সাধারণত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতিকে সহনীয় বলে ধরা হয়।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন দীর্ঘমেয়াদি আমদানি নির্ভর একটি রাষ্ট্র সবসময় পরগাছা হয়ে থাকতে হয়। কখনোই রাষ্ট্রটি অর্থনীতিতে স্বনির্ভর হতে পারেনা। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের চলমান অবস্থা অনেকটা সেইরকমই মনে হচ্ছে।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্য সমান নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর দেশের সঙ্গে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের অসম বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে।ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি দেখা যায়। যেমন ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৩,৮৮১.২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। (সূত্র : বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬)।

বাণিজ্য ঘাটতির কারণ : আমদানি নির্ভরতা: দেশের ভেতরে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনে ঘাটতি থাকলে বিদেশ থেকে বেশি আমদানি করতে হয়।

রপ্তানি কম হওয়া : আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কম থাকলে বা রপ্তানিযোগ্য পণ্য কম থাকলে।

মূল্যবৃদ্ধি : আমদানিকৃত পণ্যের (যেমন জ্বালানি তেল, কাঁচামাল)আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য বৃদ্ধি পেলে।

বাণিজ্য ঘাটতির প্রভাবে অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ে ফলে ঘাটতি পূরণের জন্য দেশকে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়,যা রিজার্ভ কমিয়ে দেয়।মুদ্রার যথার্থ মানের পতন ঘটে, ঘাটতি বেশি হলে স্থানীয় মুদ্রার মান দ্রুত হ্রাস পায়। তবে পর্যাপ্ত রেমিট্যান্স বা বিদেশী বিনিয়োগ থাকলে সাময়িকভাবে এই ঘাটতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লে রিজার্ভ কমে অর্থনীতির উপর চাপ বাড়াবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন। এছাড়া আমদানির আড়ালে অর্থপাচার বন্ধের পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন বা ইকোনোমিক ইউনিয়নের সদস্য হওয়া জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেছেন। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে অবশ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন বা ইকোনোমিক ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। বাণিজ্য চুক্তি বাড়ানো ও রপ্তানি বাণিজ্য সহজ করতে যৌথ রুট চালু করতে হবে। যখন কোনো দেশ তার রপ্তানির চেয়ে বেশি পণ্য ও পরিসেবা আমদানি করে,যার ফলে বাণিজ্য ভারসাম্য ঋণাত্নক হয়ে পড়ে।এটি দেশীয় শিল্প,কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে এবং বিনিময় হার, বাণিজ্য নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার মতো বিভিন্ন কারণ দ্বারা এটি প্রভাবিত হয়। বাজেট ঘাটতির প্রভাবের ইতিবাচক দিক হলো অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয় এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। আর নেতিবাচক দিক হলো ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ঋণ বা নতুন মুদ্রা ছাপানোর ফলে মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে। এবং ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ে।

বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমান ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৪১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। একটি রাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্যে যদি রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হয় তখন তা অসম বাণিজ্যে রুপ ধারন করে। বাংলাদেশের বাণিজ্যে সুসম বাণিজ্য রুপ নেয়নি বহু বছর ধরে। একমাত্র প্রবাসী আয় (জবসরঃঃধহপব) ছাড়া উল্লেখযোগ্য আয় আর কোন খাত থেকে আসে না। পোশাক খাত বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের প্রথম কাতারে স্থান করে নিতে পেরেছিল। মৎস্য খাতও ভালো ছিল। পোশাক শিল্প এখন ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার দখলে। আর মৎস্য শিল্প এখন ভারতের দখলে।

বাংলাদেশের সাথে এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৭৮৫ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। জুন ২৩ ২০২৬ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারে লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। স্পীকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ বিষয়ে বিস্তারিত উত্থাপিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী ৫৮ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তালিকা সংসদে তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীন থেকে বাংলাদেশ ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে,বিপরীতে রফতানি করেছে মাত্র ৬৯ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য। ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য আর আমদানি করেছে ৯৬২ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পণ্য। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রফতানি করেছে মাত্র ৫ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২৮০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, ব্রাজিলের সঙ্গে ২৪৫ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, কাতারের সঙ্গে ২১০ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। (তথ্যসূত্র : বণিক বার্তা ২৪ জুন ২০২৬)

অসম বাণিজ্যকে সুসম বাণিজ্যে পরিণত করতে হলে রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার আয়োজিত কর্মশালায় এ কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দেশের রফতানি আয় এখনকার ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের গন্ডি থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত,সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়। ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে।এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা।’ এজন্য বাণিজ্যমন্ত্রী শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর জোর দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের মূল ধারণা সময়োপযোগী হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম বড় দুর্বলতা। ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা রাখতে হবে।

লেদার, প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশল খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার রয়েছে,যাতে দেশীয় শিল্প দ্রুত বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে। রফতানি আয় বৃদ্ধির জন্য জুট খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেছেন ‘কাঁচা পাট রফতানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট-ভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদন বহুগুন বেশি আয় করা সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য শিল্প উন্নয়নে সরকার বেসরকারি খাত ও একাডেমির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। যে সব দেশ সফল হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হয়।

সরকার এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলেই রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। তখন চলমান বাণিজ্য ঘাটতি আর থাকবে না।

লেখক : গ্রন্থকার, গবেষক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক।