তুরস্কে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান (সি-সেকশন) প্রসব করানোর দায়ে শতাধিক চিকিৎসক ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞকে জরিমানা করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেই সাথে তাদেরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পুনরায় কাজ শুরু করার জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রাকৃতিক প্রসবের ওপর জোর দেওয়ার প্রচারণার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসে সরকার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন ছাড়া সিজারিয়ান করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওইসিডিভুক্ত ৩৮টি দেশের মধ্যে তুরস্কেই সিজারিয়ান প্রসবের হার সবচেয়ে বেশি। ওই বছর দেশটিতে প্রতি এক হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে প্রায় ৬১৫টিই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করে। চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক প্রসবে যেখানে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে সিজারিয়ানে মাত্র ৩০ মিনিটেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। এতে চিকিৎসকের সময় বাঁচার পাশাপাশি আইনি জটিলতার ঝুঁকি কমে এবং চিকিৎসক ও প্রসূতি উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হয়।
সংবাদমাধ্যম ডিকেন জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের কাছে সাকারিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন প্রসূতি বিশেষজ্ঞকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার কাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে একটি সরকারি হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষায় পাস করলেই কেবল তিনি পুনরায় চিকিৎসা পেশায় ফিরতে পারবেন।
তুর্কি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্টালিয়া চেম্বার অব ফিজিশিয়ানস জানিয়েছে, শাস্তির এই নির্দেশনার কারণে চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসকদের শাস্তি দিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা যাবে না, এর জন্য স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সমস্যাগুলো দূর করা প্রয়োজন।