যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের দোহায় ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের ঘোষণা দিলেও তা সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান।

ইরানের দাবি, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ তার এ ঘোষণার পরই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।

তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদীর বরাত দিয়ে সোমবার আলজাজিরা জানায়, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা করছে না তেহরান।

তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে ঘারিবাবাদী বলেন, কাতারের সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে এবং পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে দোহায় ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে-এমন খবর নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে বৈঠকটি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পর্দার আড়ালে আলোচনা চলতে পারে এবং বৈঠক চূড়ান্ত করার বিষয়ে অগ্রগতি হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেনি।

এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, দোহায় সম্ভাব্য আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এ কারণে চলতি সপ্তাহে উইটকফ ও কুশনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দোহা সফর করবেন। মূল বৈঠকের পাশাপাশি কারিগরি পর্যায়ের আলোচনাও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এর মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

তবে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিকে ঘিরে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।