এইচএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় চরম দায়িত্বহীনতা, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি এবং দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংগঠনের সাপ্তাহিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব বিষয়ে ক্ষোভ ও দাবি উত্থাপন করা হয়।

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহ এবারের এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পরীক্ষার রুটিন ও প্রশ্নপত্র তৈরির ধাপে মারাত্মক ভুল ও অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়েছে। চরম বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও একদিন পরীক্ষা না পিছিয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে ফেলা এবং দাপ্তরিক দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর বিরূপ শব্দচয়নকে অনভিপ্রেত আখ্যা দেন তারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ নিরসনে সরকারের আরও সচেষ্ট থাকা উচিত ছিল। একইসাথে এই সুযোগে আওয়ামী অপশক্তি যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

গণ-অভ্যুত্থানের ২ বছর পার হলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করা হয় বৈঠকে। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সংসদে সাধারণ বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে জুলাইয়ের আসল চেতনাকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। কারণ জনগণ কেবল আংশিক সংশোধনের জন্য নয়, বরং গণভোটে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। গণভোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অবিলম্বে একটি পৃথক ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানান খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বৈঠকে বলা হয়, দেশজুড়ে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও আক্রমণের ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে। এমনকি পুলিশ সদস্যরাও এখন আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন। অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা ও শৈথিল্য চোখে পড়ছে। সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে আরও পেশাদার ও দৃঢ় ভূমিকা পালনের জন্য মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা ও নেতৃত্ব জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

উক্ত নির্বাহী বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলমসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।