দেশজুড়ে টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ১২টি জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) তাদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। অতিভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি জেলা ও বর্তমান পরিস্থিতি
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নলিখিত অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে:
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (বন্যা পরিস্থিতির অবনতি): সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। সোমেশ্বরী ও কুশিয়ারার মতো নদীগুলোর পানি এই অঞ্চলগুলোতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চল (নতুন স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি): তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
উপকূলীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব নিম্নাঞ্চল: লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের প্রস্তুতি ও উদ্ধার কার্যক্রমউদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় মাঠ প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা, চিকিৎসা সেবা এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য ইতিমধ্যে ১১টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্যোগকবলিত জেলাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।