দলীয় বহিষ্কারের কারণে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদ সরাসরি শূন্য হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, কেবল রাজনৈতিক দল বহিষ্কার করলেই আইন অনুযায়ী এমপি পদ বাতিল হয় না। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ থেকে কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত চেয়ে আবেদন করা হলে, ইসি আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের কারণে সরাসরি কোনো এমপির সদস্যপদ বাতিল হয় না।

নৈতিক স্খলনের দায়ে ২১ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় গাজী নজরুল ইসলামকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করে। দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

এর আগে গতকাল বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানান।

এতে বলা হয়, গাজী নজরুলকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত হয়েছে। এই তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণ হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে জানানোর সিদ্ধান্তও হয়।

৭৪ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম এবার তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমিরের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন গাজী নজরুল।