ববি সংবাদদাতা: ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রকাশিত ফলাফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

গত রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনসহ মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে পিএসসি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন— মো. মনিরুজ্জামান হাসান (পররাষ্ট্র ক্যাডার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান), নাহিদ হাসান (পুলিশ ক্যাডার, অর্থনীতি), শওরাত জাহান সুমি (প্রশাসন ক্যাডার, রসায়ন), গোপাল দেবনাথ (পুলিশ ক্যাডার, লোকপ্রশাসন), তানজিল আহাদ রঞ্জু (প্রশাসন ক্যাডার, ইংরেজি), শফিকুল ইসলাম রাকিব (প্রশাসন ক্যাডার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং), রুবেল হোসেন (শিক্ষা ক্যাডার, ইংরেজি), আব্দুল্লাহ আন নোমান (শিক্ষা ক্যাডার, রসায়ন), সৈকত খন্দকার (আনসার ক্যাডার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং), আব্দুল্লাহ মারুফ (শিক্ষা ক্যাডার, সমাজবিজ্ঞান), সাজ্জাত এইচ. ডালিম (শিক্ষা ক্যাডার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং), রাশেদ ইসলাম (শিক্ষা ক্যাডার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং), শাহানা মুন্নি (অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডার, ইংরেজি), সাজ্জাদ হোসেইন (শিক্ষা ক্যাডার, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস) এবং আরও একজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশাসন ক্যাডারে ৩ জন, শিক্ষা ক্যাডারে ৬ জন, পুলিশ ক্যাডারে ২ জন এবং পররাষ্ট্র, আনসার ও অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে ১ জন করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর আগে ৪৬তম বিসিএসেও বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬ জন শিক্ষার্থী ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাসির রাহি বলেন, “গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই অর্জন শুধু নির্বাচিতদের নয়, পুরো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের। এমন সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে।”

শিক্ষার্থীদের এ অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, “সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সক্ষমতা ও ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার প্রতিফলন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, “আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শিক্ষার্থীদের এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। জাতীয় পর্যায়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় উত্তরোত্তর এগিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সংকটগুলো কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো ফলাফল করবে। আমরা আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।”

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭ জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন করে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন করে এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ জন করে প্রার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্তির এ অর্জন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।