গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজী মাজার বস্তিতে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।

এ সময় মাদকের আখড়া থেকে গাঁজা, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের ঘিরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ করে পুলিশ।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে রাতভর তুরাগ নদীর তীরবর্তী হাজী মাজার বস্তিতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ ও টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানে হাজী মাজার বস্তির কথিত নিয়ন্ত্রক কিং বাবু ও শাহবিদ্দিনের নিয়ন্ত্রণাধীন মাদকের আখড়ায় অভিযান চালিয়ে ২০ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কিছু গাঁজা, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অভিযান শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় বস্তির বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়ে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ করা হয়। এতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিরাপদে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, 'জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে হাজী মাজার বস্তিতে রোববার বিকেল থেকে রাতভর বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কিছু গাঁজা, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।'

জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, 'পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদারের নির্দেশনায় মহানগরজুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। মহানগরকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।'