‘একটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধ দমনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই যেন বিচারের ভিত্তি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোঃ মোবারক হোসাইন।
শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা কার্যালয়ে দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে মা ও তাঁর তিন মেয়েকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সন্ত্রাসী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র নয়; বরং এগুলো আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার পবিত্র প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় সৎ, যোগ্য, শিক্ষানুরাগী ও সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও সহিংসতার সংস্কৃতি বন্ধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে মোঃ মোবারক হোসাইন বলেন, বর্তমান সময়ে সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্বশীলকে আদর্শ, তাকওয়া, সততা ও জবাবদিহিতার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তি গঠন, পরিবার গঠন ও সমাজ গঠনের আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিটি দায়িত্বশীলকে জনগণের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে হবে, মানবসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এমন চরিত্রের অধিকারী হতে হবে, যাতে মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য ও সংগঠনের আদর্শের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পায়।
তিনি আরও বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, নিয়মিত সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগামী দিনের সকল সাংগঠনিক কর্মসূচি সফল করতে ঐক্য, আন্তরিকতা ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার জন্য তিনি সকল দায়িত্বশীলের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে সকল কাজের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি আবু জাফর ছিদ্দিক, জেলা সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, মনিরুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য গাজী এনামুল হক, আবুল হাশিম রেজা, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, মাওলানা আব্দুল মালেক খানসহ জেলা শুরা ও কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ।