বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ভাগাভাগি করে দুই দেশের মানুষে-মানুষে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এদিকে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে আমীরে জামায়াত ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, আমেরিকা দীর্ঘ সময়ে ধরে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। উল্লেখ্য যে, আজ থেকে আড়াই শতাব্দী আগে, ১৭৭৬ সালে, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁরা এমন এক বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, যা তাদের কাছে ছিল মানুষের জন্মগত ও মৌলিক অধিকার; নিজেদের শাসন করার অধিকার।

গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। ক্রিস্টেনসেন বলেন, আজ থেকে ২৫০ বছর আগে, আমাদের ৫৬ জন ফাউন্ডিং ফাদার স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য নিজেদের সবকিছু বাজি রেখেছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকার এই ইতিহাস বিশ্বের বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে; যার মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের নিজস্ব স্বাধীনতা সংগ্রামও রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের ইতিহাস, আদর্শ ও মূল্যবোধ বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ ও সংস্কৃতিকে আমরা আরও ভালোভাবে জানতে চাই। এজন্য দেশজুড়ে আমেরিকা সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রশ্ন করা হলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এদিন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ও দেশটির ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন করার অনুরোধ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষ্যে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত ‘আমেরিকান ফেয়ার ইন দ্য পার্ক’ অনুষ্ঠান ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন।

এদিকে ঢাকাস্থ আমেরিকার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে এক অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, এই ঐতিহাসিক ২৫০তম জন্মদিনে আমরা উদযাপন করছি সেই মূল্যবোধগুলো, যা আজও আমাদের পথ দেখায়: স্বাধীনতা, সাম্য এবং সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ঢাকার পক্ষ থেকে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বন্ধুদের সঙ্গে এসব আদর্শ ভাগ করে নিতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। স্বাধীনতার ২৫০ বছর এবং আগামীর পথে এগিয়ে চলার এই যাত্রাকে জানাই শুভেচ্ছা!

আমেরিকা যখন তার ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে, তখন আমরা বিশ্বের নানা প্রান্তের বন্ধুদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের মাঝে বাংলাদেশের মানুষও রয়েছেন। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহজুড়ে আমেরিকা সপ্তাহ এবং ২০২৬ সালজুড়ে আমাদের সঙ্গে আমেরিকার জন্মদিন উদযাপনে আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই। আসুন, আমরা একসঙ্গে উদযাপন করি স্বাধীনতা, বন্ধুত্ব এবং অভিন্ন ভবিষ্যতের যৌথ অঙ্গীকার।